April 19, 2026, 3:30 pm

নাঃগঞ্জে প্রকাশ্যে আ’লীগ নেত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে রক্তাক্ত আহত- মানববন্ধনে স্বামীর অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ শহরের কিল্লারপুল এলাকায় হযরত শাহ এনায়েত আলী চিশতী (রহঃ) এর মাজারের প্রয়াত খাদেম সৈয়দ জামাল উদ্দিন এর মেয়ে আওয়ামীলীগ নেত্রী মাহবুবা আক্তার নুপুরকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার চেষ্টাকারী আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
রবিবার ২৫শে এপ্রিল বিকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের কিল্লারপুল এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় গুরুত্বর আহত মাহবুবা আক্তার নুপুর’র স্বামী, সন্তানসহ স্থানীয় জনসাধারণ মানববন্ধনে অংশ নেয়।
মানববন্ধনে আহত নুপুরের স্বামী মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, আমার মরহুম শ্বশুর সৈয়দ জামাল উদ্দিন খাদেম এই হযরত শাহ এনায়েত আলী চিশতী (রহঃ) এর মাজারে প্রায় দীর্ঘ ৬০ বছর সন্মানের সাথে খেদমত করেছেন। কিন্তু গত ২০১৪ সালে আমার শ্বশুর এর মৃত্যু বরণ করেন। এরপর হতে আমার স্ত্রী মরহুম খাদেম সৈয়দ জামাল উদ্দিন এর মেয়ে (বর্তমান খাদেম) আওয়ামীলীগ নেত্রী মাহবুবা আক্তার নুপুর এবং আমার পরিবারের সদস্যরা এই মাজারের খেদমত করে চলেছি। কিন্তু বিগত কিছুদিন পূর্বে এই মাজারের দানবাক্স ভেঙ্গে প্রায় ২৫৩০০/ পচিশ হাজার তিনশত টাকা লুট করে নিয়ে যায় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী চক্র শিপন, ইমরান, ফারুক, নিকাত, পল্লব, আমির, সানি, জামাল, মনির, এড. কাওছার, লাদেনসহ কিশোর গং সদস্য আনাক্কু, রাফি গংরা। এই দানবাক্স’র টাকার বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাওয়ার কারনে গত বৃহস্পতিবার ২২শে এপ্রিল দিনের বেলা প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র ও তরবারি/ ছুঁরি নিয়ে আমার স্ত্রীকে একটি ফোনফ্যাক্স এর দোকান থেকে ধরে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে রক্তাক্ত আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আমার স্ত্রী প্রাণে বেঁচে ফিরেন। এ বিষয়ে আমার আহত স্ত্রীকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করার উদ্দেশ্যে এই মাদক ব্যবসায়ী চক্রটি মেরে ফেলার জন্য ধরে নিয়ে রক্তাক্ত আহত করেন যার সিসি টিভি রেকর্ড রয়েছে। মর্মে আমি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করি। পরে পুলিশ মামলার বিবাদী ১জন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করলে ঐ আসামী জামিনে মুক্ত হয়েছে।
বর্তমানে এ বিষয়ে আমার পরিবার নিয়ে আতঙ্কে দিনযাপন করছি। আমি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক, র‌্যাব-১১সহ সংশ্লিষ্ট আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা কামনা করছি।
মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, আহত মাহবুবা আক্তার নুপুরের ছেলে মোঃ নীরবসহ স্থানীয় জনসাধারণ।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা